আশরাফুল হক, লালমনিরহাট :: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ৭ বছর বয়সী শিশু নন্দিনী রায় হত্যা মামলায় চাঞ্চল্যকর রায় দিয়েছেন আদালত। প্রধান আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তার বাবা-মাকে কারাদণ্ড দিয়েছেন লালমনিরহাটের দায়রা জজ আদালত।
রবিবার (২৩ আগস্ট) লালমনিরহাটের আদালতের দায়রা জজ মো. হায়দার আলী এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের কপি অনুযায়ী, মামলার ১ নম্বর আসামি বিধান চন্দ্রকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া দণ্ডবিধির ৪০৪ ধারায় বিধান চন্দ্রকে ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার অপর দুই আসামি বিধান চন্দ্রের বাবা রনজিৎ কুমার রায় ও মা মমতা রানীকে দণ্ডবিধির ২০১/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায়ের কপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তের সময় আসামি বিধান চন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কোদাল উদ্ধার করা হয় এবং ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশু নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মামলাটিতে গত ১৩ আগস্ট চার্জশিট দাখিল করা হয়। ১৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ১৭, ১৮ ও ১৯ আগস্ট মোট ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ২০ আগস্ট আসামিদের পরীক্ষা ও উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ২৩ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়।

অর্থাৎ অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ৬ কার্যদিবসের মধ্যে বহুল আলোচিত শিশু নন্দিনী হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিধান চন্দ্র চাইলে রায়ের তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন।
রায় ঘোষণার পর তিন আসামিকেই সাজা পরোয়ানামূলে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচারে আসামিদের হাজতবাসের সময়সীমা কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
Leave a Reply